মাহবুবে আলম রাজধানীর এক স্কুলের শিক্ষক। করোনায় স্কুল বন্ধের পর গত মার্চ থেকে কোনো বেতন পাচ্ছেন না তিনি। বন্ধ আছে প্রাইভেট টিউশনিও। গত এপ্রিলেই পরিবার পাঠিয়ে দিয়েছেন গ্রামের বাড়ি। এর পর থেকে স্কুলের একটি কক্ষেই তিনি থাকছেন।
মাহবুবে আলম বলেন, আমার ছেলের বয়স সাত বছর। ছেলের জন্মগ্রহণের পর এবারই ওদের ছাড়া ঈদ করতে হচ্ছে। বাড়িতে যে যাব, হাতে কোনো টাকা-পয়সা নেই। তাই ঢাকায়ই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুবই কষ্ট লাগছে কিন্তু কোনো উপায়ই নেই। ফুটপাতে একজনের দোকানের সহকারী হিসেবে কাজ করছি। যা পাই তা দিয়ে কোনো রকম চলছি।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে না হলেও দিশাহারা অবস্থায় আছেন ১০ লাখ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী। বেতনের সঙ্গে প্রাইভেট টিউশনিও বন্ধ হওয়ায় সংকট আরো বেড়েছে। ফলে এই শিক্ষক-কর্মচারীরা জীবন চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ঈদের আনন্দের কথা তাঁরা ভাবতেও পারছেন না।
Read More News
সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন দেশের প্রায় ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রায় ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। দেশের প্রায় সাত হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার ২৫ হাজার শিক্ষক বেতন না পেয়ে দীর্ঘদিন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রথম পর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের নন-এমপিও ৮০ হাজার ৭৪৭ জন শিক্ষক ও ২৫ হাজার ৩৮ জন কর্মচারীকে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ৫১ হাজার ২৬৬ জন শিক্ষক ও ১০ হাজার ২০৪ জন কর্মচারীকে প্রায় ২৮ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে একজন শিক্ষক পাঁচ হাজার ও কর্মচারী আড়াই হাজার করে টাকা পেয়েছেন।
বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের জন্য অবশ্যই তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু পাঁচ হাজার টাকায় একজন শিক্ষক কত দিন চলতে পারেন? আগে শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনি করলে কিছু টাকা পেতেন। কিন্তু করোনার পর তাও বন্ধ। চলতি অর্থবছরে নতুন এমপিওভুক্তির বরাদ্দের ব্যাপারে এখনো আমরা কিছু জানতে পারিনি। চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন আমাদের শিক্ষক-কর্মচারীরা।